![]() |
||||
E-newsletter: September 2018 | ||||
![]() |
||||
জনস্বাস্থ্য সবার উপরে
সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সিগারেটের চোরাচালান এবং অবৈধ বাণিজ্য বন্ধে প্রথম আলো, ডেইলি স্টারসহ কয়েকটি বহুল প্রচারিত জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে, যা প্রকৃতপক্ষে সিগারেটের বিজ্ঞাপন ছাড়া আর কিছুই নয়। চোরাচালানবিরোধী উক্ত বিজ্ঞাপনে সিগারেটের মূল্য বড় করে দেখানো হয়েছে, যা বহুজাতিক তামাক কোম্পানি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ (বিএটিবি) এর প্রচারণা কৌশলের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য। চলতি বছর বাজেট ঘোষণার পর থেকে এভাবেই কোম্পানিটি খুচরা বিক্রয়কেন্দ্র এবং মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে নিজস্ব সিগারেটের দাম প্রচার করে আসছে। সিগারেট চোরাচালান প্রতিরোধের নামে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের এই বিজ্ঞাপন প্রচারের সিদ্ধান্ত তামাকবিরোধী সংগঠনগুলোর মধ্যে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। ইতিপূর্বে, ২০১৭ সালে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর কর্তৃক ‘টার্গেটিং স্মাগলড সিগারেট’ নামে চোরাচালানকৃত সিগারেট প্রতিরোধ সপ্তাহ আয়োজনের একটি উদ্যোগ বন্ধ হয় গণমাধ্যমসহ তামাকবিরোধী সংগঠনসমূহের অব্যাহত সমালোচনায়। উল্লেখ্য, তামাকের করসংক্রান্ত পদক্ষেপকে প্রভাবিত করতে তামাক কোম্পানি এবং তাদের স্বার্থরক্ষায় নিয়োজিত সংগঠন ও ব্যক্তিবর্গ প্রায়ই দাবি করে থাকেন যে, ভারত এবং অন্যান্য প্রতিবেশী দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সিগারেট চোরাপথে বাংলাদেশে প্রবেশ করায় সরকার প্রতিবছর মোটা অঙ্কের রাজস্ব হারায়। অথচ এই দাবি অযৌক্তিক এবং ভিত্তিহীন। কারণ, পৃথিবীর যে কয়েকটি দেশে তামাকপণ্যের দাম সবচেয়ে কম বাংলাদেশ তার মধ্যে অন্যতম। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক ২০১৬ সালে সংগৃহীত বিভিন্ন দেশের সিগারেটের (২০ শলাকা প্যাকেট) গড় মূল্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রতিবেশী দেশ ভারতে সস্তা সিগারেটের মূল্য বাংলাদেশের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি। কাজেই অর্থনীতির নিয়মে বাংলাদেশে সিগারেটের ব্যাপক চোরাচালান হওয়ার কোন সুযোগ নাই। তামাক কোম্পানিগুলো মূলত নীতি-নির্ধারকদের মধ্যে বিভ্রান্তি এবং ভীতি সৃষ্টি করতে চোরাচালান এবং অবৈধ বাণিজ্যের জুজু দেখিয়ে থাকে। এক্ষেত্রে তামাক কোম্পানিগুলো সময়ে সময়ে বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় কিছু অসৎ কর্মচারীর সহায়তায় চোরাচালানের নাটক সাজিয়ে তা গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচার করে থাকে। একইসাথে তারা কিছু ছদ্মবেশি তামাকবিরোধী সংগঠনের মাধ্যমে জাতীয় রাজস্ববোর্ডের সাথে চোরাচালানবিরোধী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে থাকে। তামাকমুক্ত বাংলাদেশ অর্জনে এধরনের অপতৎপরতা এখনই বন্ধ করতে হবে। তামাকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে তামাকপণ্যে কর বাড়িয়ে মূল্যবৃদ্ধির কোন বিকল্প নাই। একইসাথে নীতি-নির্ধারকদের তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ এবং কূটকৌশল থেকে বাঁচাতে অবিলম্বে এফসিটিসি আর্টিকেল ৫.৩-এর আলোকে নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন জরুরি। |
||||
![]() |